গত ২০ আগস্ট বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদের ছবি ব্যবহার করে একটি মন্তব্য প্রচার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি বলেছেন—“দেশে ইনসাফ বলতে যেন কিছুই নেই! আমি একজন স্বাধীনতার ঘোষক এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। অথচ তারা আমাকে ভোট না দিয়ে একজন রাজাকার-পুত্রকে ভোট দিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি বানিয়েছেন।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্নেল অলি আহমেদ এমন কোনো মন্তব্য করেননি। দাবিটির পক্ষে প্রচারিত পোস্টগুলোতে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র, বক্তব্যের ভিডিও, সংবাদ প্রতিবেদন কিংবা মন্তব্যের সময় ও স্থান উল্লেখ করা হয়নি। প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চ করেও নির্ভরযোগ্য কোনো উৎসে তার এমন বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটির উৎস অনুসন্ধান করে ‘Gupto Tv’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ২১ আগস্ট একই ফটোকার্ড প্রকাশিত হতে দেখা যায়। পেজটির পরিচিতিতে নিজেদের প্যারোডি/স্যাটায়ার পেজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই পেজে এর আগে প্রকাশিত একাধিক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টও পাওয়া যায়। ফলে আলোচিত ফটোকার্ডটি মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবে তৈরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কর্নেল অলি আহমেদের বাস্তব বক্তব্যের সঙ্গে ভাইরাল মন্তব্যটির পার্থক্য রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, সংবিধানে ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্বাচন কেন তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। অর্থাৎ, নির্বাচন নিয়ে তার প্রকাশ্য বক্তব্য ছিল নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তোলা; ভাইরাল ফটোকার্ডে প্রচারিত ‘রাজাকার-পুত্রকে রাষ্ট্রপতি বানানো হয়েছে’ মন্তব্যটি তার বক্তব্য নয়।
সুতরাং, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে কর্নেল অলি আহমেদ “দেশে ইনসাফ নেই” এবং “রাজাকার-পুত্রকে রাষ্ট্রপতি বানানো হয়েছে” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন—এমন দাবিটি ভুয়া ও বানোয়াট

