সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যের একটি অংশ ব্যবহার করে ডিবিসি নিউজের একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “গ্যাস সংকটের জন্য বাসা-বাড়িতে রান্না করতে অনেকে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। ফলে বিদ্যুতের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে।”
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডিবিসি নিউজের ফটোকার্ডে উপদেষ্টার বক্তব্যটি সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং তার বক্তব্যের একটি অংশ তুলে ধরে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে, যাতে মনে হয় তিনি বাসাবাড়িতে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারের কারণেই লোডশেডিং হচ্ছে বলে দায়ী করেছেন।
বিষয়টি যাচাই করতে ডা. জাহেদ উর রহমানের ওই প্রেস ব্রিফিংয়ের ভিডিও পর্যালোচনা করা হয়। ইউটিউবে প্রকাশিত প্রেস ব্রিফিংয়ের ভিডিওর ৪ মিনিটের পর থেকে তার পূর্ণ বক্তব্যের অংশ পাওয়া যায়।
সেখানে তিনি বলেন, গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে অনেকে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছেন। একই সময়ে গ্যাসনির্ভর ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও গ্যাসের সংকটের কারণে নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পেরে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুই কারণে গ্যাসের সংকটের সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে।
অর্থাৎ, ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যে শুধু বাসাবাড়িতে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারের বিষয়টি নয়, শিল্প খাতে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরির বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু ডিবিসি নিউজের ফটোকার্ডে তার বক্তব্যের শিল্প খাত-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশটি বাদ দিয়ে কেবল বাসাবাড়িতে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ফটোকার্ডটি দেখলে মনে হতে পারে, উপদেষ্টা লোডশেডিংয়ের জন্য সাধারণ মানুষের ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারের ওপর এককভাবে দায় চাপিয়েছেন। অথচ তার পূর্ণ বক্তব্যে বিষয়টি এমনভাবে বলা হয়নি।
অতএব, বক্তব্যের একটি অংশকে মূল বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করায় ডিবিসি নিউজের ফটোকার্ডে ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যের অর্থ বিকৃতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
সুতরাং, ডা. জাহেদ উর রহমান বাসাবাড়িতে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারের কারণে লোডশেডিং হচ্ছে—এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে ডিবিসি নিউজের প্রচারটি খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর।

