সম্প্রতি রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ও কিছু ছবি প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ একই কক্ষে পাওয়া গেছে। প্রচারিত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ঘটনাটির ভিন্ন একটি চিত্রও তুলে ধরা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই দাবি সঠিক নয়। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের স্থান সম্পর্কে একাধিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় তৃতীয় তলার ছাদে, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় তৃতীয় তলায় ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া যায় ঘরের ভেতরে।
বিডিনিউজ২৪-এর ঘটনাস্থলসংক্রান্ত প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছাদে, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ ছাদের সিঁড়িতে এবং ছেলে প্রিয়মের মরদেহ শোবার ঘরে খাটের নিচে পাওয়া যায়।
এ ছাড়া জাগো নিউজ, আরটিভি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও মরদেহগুলোর অবস্থান সম্পর্কে একই ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে—গণপতি চক্রবর্তী ছাদে, স্ত্রী ও মেয়ে সিঁড়িতে এবং ছেলে প্রিয়ম ঘরের ভেতরে।
ফলে “গণপতি চক্রবর্তীসহ মা-মেয়ের লাশ রুমেই পাওয়া গেছে”—এমন দাবি প্রকাশিত ঘটনাস্থলসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ যে ঘরে পাওয়া গেছে বলে প্রচার করা হচ্ছে, সেটি নিয়ে আরও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে ছেলে প্রিয়মের মরদেহের ছবি বা দৃশ্যকে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ হিসেবে উপস্থাপনের কারণে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে প্রিয়মের মরদেহ ঘরের ভেতর খাটের নিচে পাওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে কোনো ছবি বা ভিডিওতে ঘরের ভেতরের মরদেহ দেখা গেলেই সেটিকে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ হিসেবে চিহ্নিত করা তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।
এখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি বা ভিডিওর ওপর নির্ভর না করে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের সময়কার প্রত্যক্ষ তথ্য এবং একাধিক স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বিবেচনা করা। এসব প্রতিবেদনে মরদেহ উদ্ধারের স্থান সম্পর্কে পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
অতএব, ঘটনাটির ভয়াবহতা বা নি`হ`ত ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও, মরদেহ কোথায় পাওয়া গিয়েছিল—এই নির্দিষ্ট তথ্যটি বিকৃত করে প্রচার করা হলে তা ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

