
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে—এমন দাবিতে একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে। পোস্টটিতে বৈঠককে ঘিরে নানা রাজনৈতিক ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত ছবিটি পেন্টাগনে শিরিন শারমিন চৌধুরীর কোনো বৈঠকের ছবি নয়। বরং ছবিটি ২০১৭ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সময় তোলা একটি পুরোনো ছবি।
ছবিটির উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে স্টক ফটোগ্রাফি সংস্থা Alamy-তে প্রকাশিত ছবিটির মূল সংস্করণ পাওয়া যায়। মূল ছবির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবিটি পাশাপাশি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুটিতে শিরিন শারমিন চৌধুরী ও তাঁর পাশে থাকা ব্যক্তির অবস্থান, পেছনের জাতিসংঘের লোগো এবং অন্যান্য দৃশ্যগত উপাদান একই। এতে স্পষ্ট হয়, প্রচারিত ছবিটির মূল উৎস ওই পুরোনো ছবিটিই।
তবে ভাইরাল সংস্করণে ছবিটির পেছনে থাকা দুটি জাতিসংঘের পতাকা সম্পাদনা করে একটি বাংলাদেশের এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। এভাবে ছবিটির দৃশ্যগত প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করে এটিকে পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত কোনো বৈঠকের ছবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
Alamy-তে থাকা মূল ছবির তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি ১৭ অক্টোবর ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তোলা। ওই সময় শিরিন শারমিন চৌধুরী জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। অর্থাৎ ছবিটির সঙ্গে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক কোনো বৈঠকের সম্পর্ক নেই।
এদিকে, শিরিন শারমিন চৌধুরীর পেন্টাগনে এমন কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, সরকারি সূত্র বা অন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য উৎসেও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে শুধু সম্পাদিত একটি ছবিকে ভিত্তি করে এমন বৈঠকের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ নেই।
আরও অনুসন্ধানে দেখা যায়, যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ থেকে দাবিটি প্রচার করা হয়েছে, সেটি শিরিন শারমিন চৌধুরীর নামে পরিচালিত হলেও তাঁর প্রকৃত বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট নয়। ফলে ওই পেজের পোস্টকে তাঁর নিজের বক্তব্য বা কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য হিসেবে গ্রহণ করারও সুযোগ নেই।
অর্থাৎ, ২০১৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শিরিন শারমিন চৌধুরীর একটি পুরোনো সাক্ষাতের ছবি সম্পাদনা করে এর পেছনের পতাকা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সেটিকেই পেন্টাগনে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকের ছবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
সুতরাং, শিরিন শারমিন চৌধুরীর পেন্টাগনে বৈঠকের দাবিতে প্রচারিত ছবিটি সম্পাদিত ও বিভ্রান্তিকর; এটি ২০১৭ সালের জাতিসংঘে তাঁর সাক্ষাতের পুরোনো ছবি।

