
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নামে একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বক্তব্যে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনী ব্যয় কমানোর জন্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কোনো উপনির্বাচন হবে না এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতের প্রার্থীকে ওই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন এমন কোনো মন্তব্য করেননি। বরং প্রচারিত বক্তব্যটির কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র বা সরকারি সূত্র পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও নির্বাচন কমিশন-সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করেও সিইসির এমন বক্তব্যের অস্তিত্ব মেলেনি।
উল্টো, ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হওয়ার পর উপনির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ২২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে সময়ের আলো, ঢাকা টাইমস ও দৈনিক ইনকিলাবসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রচারিত বক্তব্যটির উৎস অনুসন্ধান করেও এর পক্ষে কোনো প্রামাণ্য সূত্র পাওয়া যায়নি। বরং অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘Gujob Tv- গুজব টিভি’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ২১ আগস্ট প্রথমদিকে একই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। পোস্টটিতে কোনো সূত্র বা প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট পেজটির অন্যান্য কনটেন্ট পর্যালোচনায় এটি মূলত সার্কাজমভিত্তিক পেজ হিসেবে পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সেই ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যই বাস্তব সংবাদ বা সিইসির প্রকৃত মন্তব্য হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এখানে মূল বিভ্রান্তির জায়গাটি হলো—একটি সার্কাজম পেজের পোস্টকে তার প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে বাস্তব বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রকাশিত বক্তব্যে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের কথাই বলা হয়েছে।
সুতরাং, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কোনো উপনির্বাচন হবে না এবং জামায়াতের প্রার্থীই এমপি হবেন—এমন বক্তব্য সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন করেছেন বলে যে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তা ভুয়া ও বানোয়াট।

