Google search engine
HomeOthersবন্দী পলায়ন নিয়ে তার বক্তব্য দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই তাকে নতুন...

বন্দী পলায়ন নিয়ে তার বক্তব্য দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই তাকে নতুন দায়িত্বে পদায়নের প্রক্রিয়া অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে তার ১৭ আগস্টের বক্তব্যের কারণে তাকে আইজি প্রিজন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি সময়ক্রম ও সরকারি নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সম্প্রতি দেশের কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দীদের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়েছে, বন্দী পলায়ন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার জেরেই কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আইজি প্রিজন পদ থেকে সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনকে প্রত্যাহার করা হলেও এর সঙ্গে বন্দী পলায়ন নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে নতুন দায়িত্বে পদায়নের কারণে তাকে আইজি প্রিজন পদ থেকে প্রত্যাহার করে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দীর মধ্যে ৬৯০ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। এর মধ্যে নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৬৬ বন্দীর কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তার এই বক্তব্যের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে বক্তব্যটির যোগসূত্র দাবি করে পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এ দাবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সময়ক্রম পর্যালোচনা করলে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক সময়ের আলো-এর ১৯ আগস্টের প্রতিবেদনে জানা যায়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনকে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবাসন করে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশেও তাকে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবাসনের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সরকারি নথি অনুযায়ী, ৩০ জুলাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তার নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। এ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তার বন্দী পলায়নসংক্রান্ত বক্তব্য দেওয়ার অনেক আগেই।

অর্থাৎ, বন্দী পলায়ন নিয়ে তার বক্তব্য দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই তাকে নতুন দায়িত্বে পদায়নের প্রক্রিয়া অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে তার ১৭ আগস্টের বক্তব্যের কারণে তাকে আইজি প্রিজন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি সময়ক্রম ও সরকারি নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular