সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সকল কর্মকর্তা ও বিচারককে যুক্তরাষ্ট্রে নি-ষে-ধা-জ্ঞা” শীর্ষক একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। দাবিটির সঙ্গে একটি গণমাধ্যমের ফটোকার্ডও প্রচার করে বিষয়টিকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ও বিচারকদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নি`ষে`ধা`জ্ঞা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো কর্মকর্তা বা বিচারকের বিরুদ্ধে এমন নি`ষে`ধা`জ্ঞা আরোপ করেনি। বরং, যুক্তরাষ্ট্রের নি`ষে`ধা`জ্ঞার ঘটনাটি নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)-এর কর্মকর্তাদের নিয়ে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে International Criminal Tribunal (ICT) রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) থেকে সম্পূর্ণ পৃথক প্রতিষ্ঠান।
দাবিটির সূত্র অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত পোস্টে আরটিভির একটি ফটোকার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। আরটিভির ফটোকার্ডটিতে “আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নি-ষে-ধা-জ্ঞা” শিরোনাম দেখা যায়। ফটোকার্ডটির সূত্র ধরে আরটিভির প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নি-ষে-ধা-জ্ঞা আরোপ করেছে।
অর্থাৎ, আরটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখিত “আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত” বলতে হেগভিত্তিক ICC-কে বোঝানো হয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে নয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানকে এক করে দেখানোর ফলেই বিভ্রান্তিকর দাবিটির সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি আরও যাচাই করতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের নি-ষে-ধা-জ্ঞাসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা বা বিচারকদের বিরুদ্ধে এমন কোনো নি-ষে-ধা-জ্ঞার তথ্য পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, ২০২৬ সালের ১৮ আগস্টের নথিতে ICC-এর প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের বিরুদ্ধে নি-ষে-ধা-জ্ঞার তথ্য রয়েছে।

