
সম্প্রতি বিভিন্ন ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশে ইসলামপন্থীরা হিন্দুদের জমি দখল করছে এবং নারী-শিশুসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। ভিডিওটি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দৃশ্য হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের আসাম রাজ্যের কোকরাঝাড় জেলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের একটি ভিডিওকে ভিন্ন দেশ ও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ইসলামপন্থীদের নির্যাতনের দৃশ্য দাবি করে প্রচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে ভারতের আঞ্চলিক গণমাধ্যম The Bodoland Tribune-এর ফেসবুক পেজে গত ২৯ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ভিডিওটির দৃশ্যের সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যাবলীর মিল রয়েছে।
প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ভারতের আসাম রাজ্যের বড়োল্যান্ড অঞ্চলের কোকরাঝাড় জেলার গোসাইগাঁও মহকুমার ভাওরাগুড়ি এলাকার উচাতারি গ্রামে ঘটেছে। গত ২৯ জুলাই জমি সংক্রান্ত একটি দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে একজন নারী ও একজন বয়স্ক ব্যক্তিসহ মোট চারজন আহত হন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জমি নিয়ে বিরোধে নুরুল খান ও গনি শেখের নেতৃত্বাধীন দুটি পক্ষ জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয় এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। আসামভিত্তিক একাধিক গণমাধ্যমেও ঘটনাটিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিডিওটি পর্যালোচনায় কোথাও বাংলাদেশে সংঘটিত কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ঘটনাটিকে হিন্দুদের ওপর ইসলামপন্থীদের হামলা বা সাম্প্রদায়িক নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি। একটি স্থানীয় জমি বিরোধের ভিডিওকে বাংলাদেশের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে ধর্মীয় পরিচয় যুক্ত করার মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়ানো হয়েছে।

