
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত এক ব্যক্তি একটি মাদ্রাসায় শিশুকে নি`র্ম`মভাবে নি`র্যা`তন করছেন। ভিডিওটি বাংলাদেশে সংঘটিত মাদ্রাসার হুজুর কর্তৃক শিশু নি`র্যা`ত`নের দৃশ্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এমন দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনও। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ভিডিওটিকে বাংলাদেশের মাদ্রাসায় সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় এবং এটি কোনো মাদ্রাসার হুজুর কর্তৃক শিশু নির্যাতনের ঘটনাও নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় এক বাবা কর্তৃক নিজের সন্তানকে মারধরের ঘটনার।
ভিডিওটির উৎস অনুসন্ধানে ‘صفر’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২০২৫ সালের ৫ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওটির সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশে মাদ্রাসার ঘটনার দাবি করে প্রচারিত ভিডিওটির দৃশ্যের সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।
মূল ভিডিওর ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি আলজেরিয়ার। সেখানে এক ব্যক্তি তার নিজের ছেলেকে মারধর করেন। দাবি করা হয়, শিশুটি একটি বিড়ালকে আঘাত করেছিল এবং এর জেরেই বাবা তাকে নি`র্ম`মভাবে প্রহার করেন।
পরবর্তীতে লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আন-নাহার-এ ২০২৫ সালের ৪ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও একই ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আলজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় মোস্তাগানেম প্রদেশে নিজ বাড়ির ভেতরে এক বাবা তার ছোট ছেলেকে মারধর করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। কারণ, নির্যাতনের শিকার শিশুটি ওই ব্যক্তির নিজের সন্তান এবং ঘটনাটি কোনো মাদ্রাসায় ঘটেনি।
ভিডিওটির কোথাও বাংলাদেশ, কোনো মাদ্রাসা বা ধর্মীয় শিক্ষকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত ব্যক্তিকে দেখে কোনো যাচাই ছাড়াই তাকে ‘হুজুর’ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং আলজেরিয়ার একটি পারিবারিক নি`র্যা`ত`নের ঘটনাকে বাংলাদেশের মাদ্রাসার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

