সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য এইচএসসি এবং মেম্বার পদে প্রার্থীদের জন্য এসএসসি সনদের মূল কপি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি এসব সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে বলেও প্রচার করা হচ্ছে।
তবে তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়।
গত ২১ জুলাই একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে রুল জারি করেন। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জানতে চান, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পর্যায়ে নির্ধারণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।
অর্থাৎ আদালতের রুলে কোথাও চেয়ারম্যান পদের জন্য এইচএসসি বা মেম্বার পদের জন্য এসএসসি সনদের মূল কপি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়নি।
এ বিষয়ে প্রচারিত দাবির সত্যতা খুঁজতে বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যম এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করা হলেও এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাইকোর্ট রুল জারির সময় স্থানীয় সরকারসচিব, আইনসচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেন। রুল জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারও জানিয়েছেন, প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কমিশন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। আদালতের নির্দেশনা এবং অন্যান্য দেশের আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সুতরাং, ‘ইউপি চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি সনদের মূল কপি ছাড়া মনোনয়ন বাতিল করা হবে’—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং বিভ্রান্তিকর।
প্রয়োজনে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত, পোস্টার-উপযোগী বা নিউজরুম ফ্যাক্টচেক স্টাইলে রূপান্তর করে দিতে পারি।

