Google search engine
HomeOthers'চারদিকে হিন্দু গণহত্যা চলছে'দাবিতে মৌলভীবাজারের বাবা-ছেলেরপৃথক মৃত্যুর ঘটনা জুড়েঅপপ্রচার

‘চারদিকে হিন্দু গণহত্যা চলছে’দাবিতে মৌলভীবাজারের বাবা-ছেলেরপৃথক মৃত্যুর ঘটনা জুড়েঅপপ্রচার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চারদিকে হিন্দু গণহ-ত্যা চলছে’ দাবি করে মৌলভীবাজারের একটি পরিবারের বাবা-ছেলের পরপর মৃ`ত্যুর ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হ`ত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রচারণায় ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল করে দুইটি পৃথক মৃত্যুকে একত্রে উপস্থাপন করে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর পরিকল্পিত গণহত্যা বা সাম্প্রদায়িক হ`ত্যাকাণ্ড চলছে—এমন একটি বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহ`ত্যার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল। তাঁর মৃ`ত্যুর ১১ দিন পর, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কে পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভটের ফার্মেসির দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে তাঁর বাবা পূর্ণেন্দু চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পূর্ণেন্দু চক্রবর্তীর মৃ`ত্যুর ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা দরজা খুলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক মনোজ কুমার সরকার জানিয়েছেন, তাঁর মৃ`ত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তখনও জানা যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন ছিল। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অন্যদিকে, মৌলভীবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পূর্ণেন্দুর একমাত্র ছেলে ডা. প্রান্তের মৃ`ত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছেলের মৃ`ত্যুর শোক থেকে পূর্ণেন্দু আত্মহ`ত্যা করে থাকতে পারেন—তবে এটি পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চূড়ান্ত তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়।

অর্থাৎ, বিদ্যমান তথ্য অনুযায়ী বাবা ও ছেলের মৃ`ত্যুকে কোনো সাম্প্রদায়িক হা`ম`লা, হ`ত্যাকাণ্ড বা ‘হিন্দু গণহ`ত্যা’র ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ছেলের মৃ`ত্যুর ১১ দিন পর বাবার মৃ`ত্যু এবং উভয় ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের পৃথক তদন্তের তথ্যই সংবাদে এসেছে। বাবার মৃ`ত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।

সুতরাং, একটি পরিবারের বাবা-ছেলের পরপর মৃ`ত্যুর ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হ`ত্যাকাণ্ড বা ‘চারদিকে হিন্দু গণহ`ত্যা’র প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা তথ্যগতভাবে ভিত্তিহীন। পৃথক ও তদন্তাধীন দুটি মৃ`ত্যুর ঘটনাকে একত্র করে দেশে হিন্দু গণহ`ত্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular