গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়, হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নি`হ`ত হয়েছেন।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হলেও কোনো নি`হ`তের তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, দাবির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটিও সাম্প্রতিক ঘটনার নয়; এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার একটি পুরোনো ভিডিও।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেশীয় একাধিক মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২৮ জুলাইয়ের হা`ম`লা ও সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। তবে কোনো ব্যক্তি নি`হ`ত হওয়ার তথ্য সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন কিংবা নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। বিডিনিউজ, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে হামলায় আহত হওয়ার তথ্য উঠে এলেও নিহতের কোনো উল্লেখ নেই।
এছাড়া, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও ঘটনায় কারও নি`হ`ত হওয়ার দাবি করেননি। বরং তারা হা`ম`লায় একাধিক নেতা-কর্মী আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, দাবির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটির উৎস অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি হবিগঞ্জের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ‘বাদশা ফাহাদ’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১৭ জুন একই ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল। ভিডিওটির দৃশ্যের সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়।
পুরোনো পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির এক শিক্ষার্থীর মৃ`ত্যুর পর তার বাবার আহাজারির দৃশ্য। পরবর্তীতে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন থেকেও জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান (১৪)। তাকে আবাসিক স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে মৃ`ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল, মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে ওপরের শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মা`র`ধ`র করেছিল। ঘটনাটি তদন্ত করে পুলিশ।
অর্থাৎ, লক্ষ্মীপুরে এক শিক্ষার্থীর মৃ`ত্যুকে কেন্দ্র করে ধারণ করা পুরোনো ভিডিওকে হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে।

