সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে ‘শেখ হাসিনার মতো উন্নয়ন ১০০ বছরেও হবে না’ মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে ভিডিওটিতে আরও দাবি করা হয়, তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে স্পিকারকে কোথাও ‘শেখ হাসিনার মতো উন্নয়ন ১০০ বছরেও হবে না’ মন্তব্য করতে শোনা যায় না। বরং, একজন উপস্থাপকের কণ্ঠে এ ধরনের দাবি বর্ণনা করতে দেখা যায়। অর্থাৎ, ভিডিওটির শিরোনাম ও বর্ণনার সঙ্গে ভিডিওতে থাকা প্রকৃত বক্তব্যের কোনো মিল নেই।
বিষয়টি যাচাই করতে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম, সংসদের কার্যবিবরণী এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো পর্যালোচনা করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের এমন কোনো বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদি সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তিনি এমন মন্তব্য করতেন, তাহলে তা জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ ধরনের কোনো সংবাদ বা রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ভিডিওটিতে ব্যবহৃত অডিওটি আসলে সংসদ অধিবেশনের নয়। এটি চ্যানেল আইয়ের একটি টকশোতে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আলোচনা করার সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দেওয়া বক্তব্যের অংশবিশেষ। সেই বক্তব্যকে মূল প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে সংসদ অধিবেশনের আলাদা ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে দর্শকদের কাছে এটি সংসদে দেওয়া বক্তব্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
একইভাবে, ভিডিওতে দেখানো বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের ওয়াক আউটের ঘটনাটিও ভিন্ন একটি প্রসঙ্গের। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তারা গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংক্রান্ত একটি বিতর্কে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছিলেন। স্পিকারের নামে প্রচারিত আলোচিত মন্তব্যের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
অর্থাৎ, একটি টকশোতে ভিন্ন প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্যের অডিও, সংসদের আলাদা ভিডিও ফুটেজ এবং বিরোধী দলের ওয়াক আউটের দৃশ্য একত্রিত করে একটি নতুন বর্ণনা তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পিকারের অবস্থান সম্পর্কে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সুতরাং, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ অধিবেশনে ‘শেখ হাসিনার মতো উন্নয়ন ১০০ বছরেও হবে না’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ দাবির সমর্থনে ছড়ানো ভিডিওটি সম্পাদিত, প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন এবং বিভ্রান্তিকর।

