সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। খোলা রাস্তায় একটি ড্রেনের ওপর এক নারীর সন্তান প্রসবের ছবি প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে অর্থ দিতে না পারায় এক গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তীব্র প্রসববেদনা উঠলে তিনি রাস্তায়ই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হন।
তবে দাবিটির সত্যতা যাচাই করে ছবিটির সঙ্গে নোয়াখালী বা বাংলাদেশের কোনো সরকারি হাসপাতালের ঘটনার নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। দেশের কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমেও নোয়াখালীতে এমন ঘটনার খবর প্রকাশিত হওয়ার তথ্য মেলেনি।
আলোচিত ছবিটির উৎস অনুসন্ধান করে রিভার্স ইমেজ সার্চে নেপালের হিমালয় টিভিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদনের ছবির সঙ্গে এখন ছড়ানো ছবির মিল রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের সপ্তরী জেলার রাজবিরাজের গজেন্দ্রনারায়ণ সিং হাসপাতালে পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় ববিতা পাসোয়ান নামে এক প্রসূতি চিকিৎসাসেবা পাননি। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি খোলা রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন। একই ঘটনা নিয়ে একাধিক নেপালি গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বিস্তারিত পাওয়া যায়। ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে প্রসবব্যথা শুরু হলে স্বামী হরে রাম পাসোয়ান ববিতাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। রক্ত পরীক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষ ৩ হাজার ২০০ নেপালি রুপি জমা দিতে বলে। দম্পতির কাছে ছিল ২ হাজার রুপি। বাকি টাকা জোগাড় করতে না পারায় এবং রাতে দোকানপাট বন্ধ থাকায় তাঁরা হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ব্যথা তীব্র হলে হাসপাতালের বাইরে ড্রেনের ওপর অন্য নারীদের সহায়তায় তিনি সন্তান প্রসব করেন। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে মা ও নবজাতককে ফিরিয়ে নেয়। পরে তাঁদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং দুজনেই সুস্থ আছেন।
অর্থাৎ, নেপালের রাজবিরাজের একটি ঘটনার পুরোনো ছবিকে নোয়াখালীর সরকারি হাসপাতালের নতুন ঘটনা বলে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবিটির সঙ্গে আলোচিত স্থান ও সময়ের কোনো যাচাইযোগ্য যোগসূত্র নেই।
সার্বিকভাবে, নোয়াখালী সরকারি হাসপাতাল থেকে ফি দিতে না পারায় এক নারীকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং রাস্তায় সন্তান প্রসব—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র বা বাংলাদেশি উৎস পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত ছবিটি নেপালের ঘটনার।
সুতরাং, ‘হাসপাতালের ফি দিতে না পারায় নোয়াখালীতে রাস্তায় সন্তান প্রসব’ দাবিতে প্রচারিত ছবি ও বক্তব্যটি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর।

