সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেটের এক হিন্দু গৃহবধূ বাসনা রানি মালাকারকে ইসলামপন্থীরা হ`ত্যা করেছে—এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টগুলোতে তাঁর মৃ`ত্যু`কে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটির সঙ্গে প্রচারিত ঘটনাপ্রবাহের কোনো মিল নেই। স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাসনা রানি মালাকার হ`ত্যাকাণ্ডের শিকার হননি; বরং বাড়ির পাশের সুরমা নদীতে ভাসমান জ্বালানিকাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে পানিতে ডুবে তাঁর মৃ`ত্যু হয়।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ৮ জুন সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের কোনাগ্রাম সংলগ্ন এলাকায়। সেদিন সকালে লাকড়ি সংগ্রহের জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বাসনা রানি নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় আট ঘণ্টা পর সুরমা নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর স্বামী কাজল মালাকারও এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিখোঁজ হওয়া, নদীতে তল্লাশি এবং মরদেহ উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও তাঁকে হ`ত্যা করা হয়েছে কিংবা হত্যার সঙ্গে ইসলামপন্থীদের সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, একজন হিন্দু নারীর পানিতে ডুবে মৃ`ত্যুর একটি বাস্তব ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সাম্প্রদায়িক হ`ত্যাকাণ্ডের বয়ান তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রকৃত মৃ`ত্যুর কারণ ও ঘটনার প্রেক্ষাপট আড়াল করে ঘটনাটিকে ধর্মীয় সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
সুতরাং, সিলেটে বাসনা রানি মালাকারকে ইসলামপন্থীরা হ`ত্যা করেছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি সুরমা নদীতে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান।

