সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি “Jacob Milton” নামের এক ব্যক্তির একটি বিস্তৃত ও সংবেদনশীল দাবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে যে বিভিন্ন প্রশাসনিক বদলি, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং সামরিক–বেসামরিক নিয়োগে বিদেশি প্রভাব নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। এসব দাবিতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)-কে জড়িয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রচারে বলা হচ্ছে, চট্টগ্রামের একজন মেজর জেনারেলকে “বিদেশি অনুগত” হিসেবে বদলি করা হয়েছে, কিছু বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা হয়েছে, এবং পুলিশ–প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশপন্থী অবস্থান যাচাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে যে এসব সিদ্ধান্ত নাকি রাজনৈতিক বৈঠকের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব দাবির কোনো প্রমাণযোগ্য ভিত্তি নেই। কোনো সরকারি নথি, সামরিক ঘোষণা, বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে উল্লিখিত বদলি বা নির্দেশনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একইভাবে দাবি করা “গোপন বৈঠক” বা নীতিনির্ধারণী কোনো আলোচনারও কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য মেলেনি।
আলোচনায় আরও বলা হয়েছে যে সন্তু লারমা, সালাহউদ্দিন আহমেদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমঝোতা হয়েছে—এমন দাবির পক্ষেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উল্লেখিত “প্লট নম্বর ২১১১, জাকির হোসেন রোড, খুলশি”–তে ভারতীয় কনস্যুলেট সংশ্লিষ্ট বৈঠকের দাবিটিও কোনো কূটনৈতিক বা অফিসিয়াল সূত্র দ্বারা সমর্থিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্ট “Jacob Milton” নামের এই ব্যক্তি নিয়মিতভাবে এ ধরনের সরকারবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব প্রচারণার কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই; শুধুমাত্র “গোপন বৈঠক” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে অনুমানভিত্তিক ও আকর্ষণীয় পোস্ট তৈরি করা হচ্ছে, যা অপপ্রচারের অংশ হিসেবে ছড়ানো হচ্ছে।
এসব পোস্টে একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় ইস্যুকে একত্র করে একটি জটিল ও নাটকীয় বর্ণনা তৈরি করা হয়েছে, যা বাস্তব তথ্যের ওপর নয় বরং অনুমান ও প্রচারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত।
সুতরাং, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সন্তু লারমাকে জড়িয়ে গোপন বৈঠক ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে প্রভাবের যে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা।

