Google search engine
HomePoliticsশেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে ইউপি নির্বাচনের ১৩ ডিসেম্বরের তারিখ মিলিয়ে ভারতীয়...

শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে ইউপি নির্বাচনের ১৩ ডিসেম্বরের তারিখ মিলিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচার

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরতে পারেন এবং একই সময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রতিবেদনে এই দুই ঘটনার সময়ের মিলকে কেন্দ্র করে এমন একটি বয়ান উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে ইউপি নির্বাচনের সময় নির্ধারণের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথিত দেশে ফেরার একটি যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা তৈরি হয়।

তবে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য ও পরবর্তী বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৩ ডিসেম্বরের তারিখটি কোনো চূড়ান্ত নির্বাচনী তফসিলের অংশ ছিল না। ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশন সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল। সেই পরিকল্পনায় দ্বিতীয় ধাপের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১৩ ডিসেম্বরের কথা বলা হয়েছিল। একই পরিকল্পনায় অন্যান্য ধাপের জন্যও সম্ভাব্য কয়েকটি তারিখ দেওয়া হয়েছিল।

এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্পষ্ট করেন, ইউপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ তখনো চূড়ান্ত হয়নি। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের বিভিন্ন পরীক্ষা, পরবর্তী সময়ে রমজান এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের উপযুক্ত সময় নির্ধারণে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অর্থাৎ, ১৩ ডিসেম্বরকে চূড়ান্ত ভোটের দিন ধরে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনায় তারিখটি সম্ভাব্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তী বৈঠকের পরও তা চূড়ান্ত হয়নি। বরং কমিশন জানিয়েছে, আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও ভোট শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে।

এ অবস্থায় একটি সম্ভাব্য নির্বাচনী তারিখকে চূড়ান্ত ধরে নিয়ে সেটিকে শেখ হাসিনার কথিত ১৪ ডিসেম্বর দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যে এমন কোনো যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে দুটি আলাদা বিষয়ের সময়ের সম্ভাব্য মিলকে ভিত্তি করে তৈরি করা এই বয়ানের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

সুতরাং, ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য ১৩ ডিসেম্বরের তারিখকে চূড়ান্ত ধরে শেখ হাসিনার কথিত ১৪ ডিসেম্বর দেশে ফেরার সঙ্গে যোগসূত্র তৈরির প্রচারটি বিভ্রান্তিকর।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular