সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Hill Voice’-এর একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে লংগদুর ভাইবোনছড়ায় ভূমি বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, ভূমি বেদখলকারীর পক্ষে অবস্থান এবং স্থানীয় পাহাড়ি ভূমিমালিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে এমনভাবে ঘটনাটি উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যকার বিদ্যমান সংবেদনশীল সম্পর্কের ক্ষেত্রেও উত্তেজনা সৃষ্টির অবকাশ তৈরি হয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ভূমি বিরোধটি নিয়ে একটি মীমাংসা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উভয় পক্ষের ভূমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয় এবং মালিকানা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র ভূমি অফিসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মালিকানা যাচাই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো পক্ষকে দখল নিতে না দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ঘরেও কাউকে বসবাস না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অর্থাৎ, সভার কার্যক্রমের বর্ণনায় কোনো পক্ষের হাতে বিরোধপূর্ণ জমি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে, ‘Hill Voice’-এর প্রতিবেদনে সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি নথি, সভার কার্যবিবরণী, স্বাধীন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য বা অন্য কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে একটি ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অনুষ্ঠিত সভাকে সরাসরি সেনাবাহিনীর পক্ষপাতমূলক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে সভার প্রকৃত কার্যক্রমকে গুলিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি করে।
বিশেষভাবে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, ভূমি বিরোধের মতো সংবেদনশীল ঘটনাকে জাতিগত পরিচয়ের বিভাজন সামনে রেখে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করা হলে তা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভুল ধারণা, অবিশ্বাস ও উত্তেজনা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বা উসকানিমূলক অবস্থানে নেওয়ার মতো প্রচার সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
এ ধরনের প্রচারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথি যাচাইয়ের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধির উপস্থিতিকে যদি একতরফাভাবে কোনো পক্ষের প্রতি সমর্থন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে সেনাবাহিনীর নিয়মিত নিরাপত্তামূলক ও সমন্বয়মূলক ভূমিকা সম্পর্কে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারে।
তাই লংগদুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও হুমকির অভিযোগকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রচার করার আগে তার স্বতন্ত্র ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন বা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে জনসাধারণকে উসকে দিতে পারে এমন একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর প্রচার থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যাচাইযোগ্য তথ্যের পরিবর্তে অভিযোগনির্ভর বর্ণনাকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশনের মানদণ্ড পূরণ করে না।

