সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ঘটনা বা দৃশ্যের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় যুক্ত করে সেটিকে ‘হিন্দু জেনোসাইড’ বা হিন্দুদের ওপর চলমান নিপীড়নের উদাহরণ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এসব পোস্টে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হিন্দু হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তাঁর প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল পাওয়া যায় না।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিতে যাঁকে হিন্দু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন মুসলিম সিএনজি চালক। অর্থাৎ, একটি ব্যক্তিগত ঘটনা বা দুর্ঘটনার তথ্যের সঙ্গে ভুক্তভোগীর ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন করে সেটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রচারিত পোস্টগুলোতে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদসূত্র উপস্থাপন না করেই তাঁকে হিন্দু দাবি করা হয়েছে। পরে সেই পরিচয়ের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে ‘হিন্দু জেনোসাইড’-এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর ধর্মীয় পরিচয় ছড়িয়ে বৃহত্তর সাম্প্রদায়িক বয়ানের সঙ্গে ঘটনাটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন করে উপস্থাপন করা এবং সেই পরিবর্তিত পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা তথ্যের সঠিক উপস্থাপন নয়। বিশেষ করে ‘গণহ-ত্যা’ বা ‘জেনোসাইড’-এর মতো গুরুতর দাবির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।

