সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংকে ঘিরে কয়েকটি গণমাধ্যমে এমন একটি দাবি প্রচার করা হয়েছে যে, দিল্লিতে চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে ভারতের ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে এবং দলটির বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান জানানো হয়েছে।
তবে প্রচারিত দাবির সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ের প্রকৃত বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি। বরং, ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্টভাবে জানান, দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভকে ঘিরে বিদেশি অর্থায়ন, বিদেশি সম্পৃক্ততা কিংবা পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রচারিত হলেও এ বিষয়ে তার কাছে শেয়ার করার মতো কোনো তথ্য নেই।
ব্রিফিংয়ের ওই অংশে সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল দিল্লির চলমান বিক্ষোভে বিদেশি অর্থায়ন, বিদেশি সম্পৃক্ততা এবং পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে। জবাবে মুখপাত্র বলেন, “এই ইস্যুতে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করার মতো আমার কাছে কোনো ধরনের তথ্য নেই।” পুরো বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী বা জামায়াতের কোনো শাখার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ব্রিফিংয়ের শুরুতে সাংবাদিকের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাকিস্তানের আসিয়ান ফোরামে দেওয়া বক্তব্য, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ শব্দবন্ধ এবং সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এই বক্তব্যের সঙ্গেও জামায়াতকে জড়িয়ে প্রচারিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
অর্থাৎ, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানানো বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সেখানে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ভারতের অবস্থান প্রকাশের দাবি করা হয়েছে। ব্রিফিংয়ের প্রকৃত বক্তব্যে জামায়াতের প্রসঙ্গই আসেনি।

