Google search engine
HomeOthersবাংলাদেশের 'জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষিকার মারামারি' দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর

বাংলাদেশের ‘জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষিকার মারামারি’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ‘জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের হামলার শিকার হয়েছেন এক শিক্ষিকা। ২ মিনিট ২১ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওটিতে স্কুল ড্রেস পরিহিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এক নারীর হাতাহাতি ও মারামারির দৃশ্য দেখা যায়, যা দেখে অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের কোনো বিদ্যালয়ের ঘটনা মনে করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তবে ভিডিওটির সঙ্গে প্রচারিত দাবি ও প্রেক্ষাপট সঠিক নয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওতে দেখতে পাওয়া মারামারির ঘটনাটি বাংলাদেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার বামনগোলা থানার অন্তর্গত ‘জগদলা উচ্চ বিদ্যালয়’-এর ঘটনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টিভি৯ বাংলা’-এ গত ২২ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন এবং অন্যান্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনাটি ঘটেছিল এক সাবেক শিক্ষার্থীর স্কুল সার্টিফিকেট দেওয়াকে কেন্দ্র করে।

ওই সাবেক শিক্ষার্থীর বর্তমান সংশোধিত নাম অনুযায়ী সার্টিফিকেট দাবি করা হলে, প্রতিষ্ঠানের নথিতে থাকা নাম অনুযায়ীই তা দেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন স্কুলের এক নারী শিক্ষাকর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পোস্টে তাকে ‘শিক্ষিকা’ বলা হলেও, তিনি মূলত একজন শিক্ষাকর্মী বা স্টাফ। এই নাম সংশোধনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই সাবেক শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়ে দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন ছাত্রী ওই নারী শিক্ষাকর্মীর সঙ্গে হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ঘটনাটি স্থানীয় থানা ও ভারতীয় শিক্ষা দপ্তর পর্যন্ত গড়ায় এবং এর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশেও দিনাজপুর, রংপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে ‘জগদল উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ঠাকুরগাঁওয়ের জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদ আলী এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবস্থিত একই নামের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।

অর্থাৎ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহের একটি স্কুলে সার্টিফিকেট সংশোধন সংক্রান্ত বিরোধে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষাকর্মীর মধ্যকার মারামারির একটি ভিডিওকে বাংলাদেশের স্কুলে শিক্ষিকাকে মারধরের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এতে ঘটনার প্রকৃত স্থান ও পরিচয় আড়াল করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

সুতরাং, বাংলাদেশের ‘জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষিকার মারামারি’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর; ভিডিওর ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এবং হামলায় শিকার হওয়া ওই নারী কোনো শিক্ষিকা নন, তিনি মূলত একজন শিক্ষাকর্মী। 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular