সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোনামীর নামে একটি ছবি প্রচার হচ্ছে, যেখানে তাঁকে অশ্লীল পোশাকে দেখানো হয়েছে।
তবে Fact Review টিমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছবিটি আসল নয়। মোনামীর একটি সাধারণ ছবিকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদনা করে এই এডাল্ট ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে ‘Shamsuddin Ahmed’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২৫-এ প্রচারিত একটি ছবি পাওয়া যায়। ওই ছবির সঙ্গে আলোচিত ছবির দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গি, চেহারার অভিব্যক্তি, চশমা এবং আশপাশের পরিবেশের হুবহু মিল রয়েছে। এমনকি পোশাকের রঙের সঙ্গেও মোনামীর পরিহিত শাড়ির রঙ মিলে যায়। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মূল ছবিটিকে সম্পাদনা করেই নতুন ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
ছবিটি পর্যবেক্ষণ করলে কিছুটা অস্বাভাবিকতাও চোখে পড়ে, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়।
এ বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে ছবিটি ওপেনএআইয়ের কনটেন্ট ভেরিফিকেশন টুল দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিটিতে এআই-নির্মিত কনটেন্টের বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং ‘SynthID’ ওয়াটারমার্ক সক্রিয় আছে। SynthID হলো এমন একটি ডিজিটাল ওয়াটারমার্কিং প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ছবি, অডিও বা ভিডিওতে শনাক্তযোগ্য সংকেত যোগ করা হয়। পরে এই সংকেত দেখে সহজেই বোঝা যায় কনটেন্টটি এআই দিয়ে তৈরি কি না।
অর্থাৎ, ঢাবি শিক্ষিকা মোনামীর নামে প্রচারিত এই ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদিত। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

