সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের নামে একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে পার্থ বলেছেন, “এখন পর্যন্ত ১ টাকা দুর্নীতি করতে দেননি, ১ টাকা চাঁদাবাজিও করতে দেননি। এরপরও মানুষ বিদ্যুৎ আর গ্যাস নিয়ে পড়ে আছে। এসব মানুষের মানসিকতায় সমস্যা আছে—এদের পাবনা নেওয়া উচিত।”
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আন্দালিভ রহমান পার্থ এমন কোনো মন্তব্য করেছেন—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আলোচিত বক্তব্যের কোনো সংবাদ প্রতিবেদন, ভিডিও, সাক্ষাৎকার, সংসদীয় বক্তব্য কিংবা তাঁর অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বরং সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে পার্থের যে বক্তব্য নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে তাঁকে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিতে দেখা যায়। ২৮ এপ্রিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে আলোচনার সময় তিনি আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি ও পরিকল্পিত চুরির অভিযোগ তোলেন এবং বিদ্যুৎ সংকটের বিভিন্ন কারণ নিয়ে বক্তব্য দেন। তাঁর ওই বক্তব্যের বিস্তারিত বাসস ও অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া ২৩ আগস্ট ২০২৬ তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পার্থ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সরকারের কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর ওই বক্তব্যও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে; কিন্তু সেখানে ভাইরাল বক্তব্যটির কোনো অংশ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও মন্ত্রীর নামে একাধিক ব্যঙ্গাত্মক ও ভুয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে ফ্যাক্ট-চেকেও উঠে এসেছে। যাচাইয়ে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে স্যাটায়ার বা প্যারোডি পেজের তৈরি কনটেন্ট পরবর্তীতে বাস্তব বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
তাই কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস ছাড়া আন্দালিভ রহমান পার্থের নামে এমন একটি বক্তব্য প্রচার করা হলে সেটিকে তাঁর প্রকৃত বক্তব্য হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে “মানসিকতায় সমস্যা” এবং “পাবনা নেওয়া উচিত”—এ ধরনের স্পর্শকাতর বক্তব্যের ক্ষেত্রে মূল ভিডিও, বক্তব্যের স্থান-কাল কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

