ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর ছবি প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, তানজিনা আক্তার শর্মী নামে এক পোশাকশ্রমিক গু`লিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মা`রা গেছেন।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত ছবির নারী শ্রমিকের নাম তানজিনা আক্তার শর্মী নয়, জান্নাত। তিনি গু`লিবিদ্ধও হননি। প্রকৃতপক্ষে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তী সময়ে ধারণ করা ভিডিওতে তাঁকে উঠে দাঁড়াতেও দেখা যায়।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় গণমাধ্যম প্রেস নারায়ণগঞ্জের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আলোচিত ঘটনার একই ফুটেজ পাওয়া যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, কাঁদানে গ্যাসের শেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এক নারী শ্রমিক। ভিডিওটির সূত্র ধরে ধারণকারী সাংবাদিক সৌরভ হোসেন সিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই শ্রমিকের নাম জান্নাত, বয়স ১৮ বছর। তিনি মিশর হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করেন। জান্নাতের সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, কারখানায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে ছুটি দেওয়া হয়। এরপর রাস্তায় বেরিয়ে কাঁদানে গ্যাসের সামনে পড়ে অসুস্থ হয়ে যান জান্নাত।
এদিকে, প্রথম আলোর ৪ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিন সকালে সদর উপজেলার কাঠেরপুল এলাকায় শ্রমিকেরা হাজীগঞ্জ-পোস্ট অফিস সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এ ছাড়া, এ-সংক্রান্ত অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেও নারায়ণগঞ্জে ওই দিনের সংঘর্ষে কোনো শ্রমিকের মৃ`ত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, প্রচারিত ছবির নারী শ্রমিক তানজিনা আক্তার শর্মী নন। তিনি জান্নাত, যিনি ফতুল্লায় শ্রমিক বিক্ষোভের সময় পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসে অসুস্থ হয়েছিলেন। তাঁর গু`লিবিদ্ধ হয়ে মৃ`ত্যুর দাবিটি মিথ্যা।

