সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোশাকশ্রমিক তৌফিকের মৃ`ত্যুর পর সাভারে পুলিশের গু`লিতে আরও একজন শ্রমিক নি`হ`ত হয়েছেন বলে দাবি করে পোস্ট প্রচার করা হচ্ছে। এসব পোস্টে ‘ভাতের জন্য আর কত জীবন অকালে কেড়ে নেবে অবৈধ তারেক সরকার’—এমন বক্তব্য যুক্ত করে ঘটনাটিকে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারের উপাদান হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে সাভারে পুলিশের গু`লিতে কোনো শ্রমিক নি`হ`ত হওয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ৪ নভেম্বর সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘ`র্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রে`নেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘ`র্ষে পুলিশ, শ্রমিক, সাংবাদিক ও পথচারীসহ অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তবে এসব প্রতিবেদনের কোথাও পুলিশের গু`লি`তে কোনো শ্রমিক নি`হ`ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া, সাভারের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গু`লিতে শ্রমিক নি`হ`ত হওয়ার দাবি সমর্থন করে এমন কোনো প্রত্যক্ষ তথ্য, নি`হ`তের পরিচয়, মরদেহ উদ্ধারের খবর কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের বাস্তব ঘটনাকে ব্যবহার করে সেখানে আরেক শ্রমিক নি`হ`ত হওয়ার কাল্পনিক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এর আগেও শ্রমিক আহত ও নি`হ`ত হওয়ার একাধিক অসমর্থিত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাভারে পুলিশের গু`লিতে আরেক শ্রমিক নি`হ`ত হওয়ার দাবি প্রচার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে, কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়াই মৃ`ত্যুর খবরকে রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির শামিল।
সুতরাং, সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সং`ঘ`র্ষের ঘটনা ঘটলেও পুলিশের গু`লিতে আরেক শ্রমিক নি`হ`ত হওয়ার দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষে আহত হওয়ার তথ্যকে মৃ`ত্যুর খবর হিসেবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পোস্টগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার।

