সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “দাদু এক দফা এক দফা যে করো? তোমাদের বুড়া দাদুর গোপন ভিডিও কিন্তু আমার কাছে আছে: পরীমণি” শীর্ষক একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। দৈনিক আমার দেশের লোগো ও নকশা ব্যবহার করে তৈরি ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়েছে, চিত্রনায়িকা পরীমণি জামায়াত আমিরকে উদ্দেশ করে এমন মন্তব্য করেছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আমার দেশ এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। পরীমণির পক্ষ থেকেও এমন বক্তব্যের সমর্থনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আলোচিত ফটোকার্ডটির সত্যতা যাচাই করতে দৈনিক আমার দেশের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট, ই-পেপার ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করা হয়। এসব মাধ্যমে কথিত বক্তব্যসংবলিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। একইভাবে, পরীমণির ফেসবুক পেজেও জামায়াত আমিরকে নিয়ে এমন কোনো বক্তব্যের সন্ধান মেলেনি। মূলধারার অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য সূত্রেও দাবিটির সমর্থনে তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফটোকার্ডটির উৎস ও নির্মাণপদ্ধতি যাচাই করতে ওপেনএআইয়ের কনটেন্ট যাচাইয়ের সরঞ্জাম দিয়ে এটি বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্লেষণে ছবিটিতে এআই-নির্মিত কনটেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি ‘সিন্থআইডি’ (SynthID) ওয়াটারমার্ক সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া যায়। সিন্থআইডি হলো এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্ট শনাক্ত করতে ব্যবহৃত একটি ডিজিটাল ওয়াটারমার্কিং প্রযুক্তি। তবে এ ধরনের সংকেতের ফলাফলকে অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আলোচিত ফটোকার্ডটি ‘সায়মা মাহি’ (Sayma Mahi) নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রচার করা হয়েছে। পেজটির কার্যক্রম পর্যালোচনায় ভুয়া ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার এবং অন্যের ছবি ও এআই-নির্মিত কনটেন্টকে বাস্তব ব্যক্তি বা ঘটনার অংশ হিসেবে উপস্থাপনের নজির পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। পেজটির কার্যক্রম নিয়ে রিউমর স্ক্যানারেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দৈনিক আমার দেশের নিজস্ব প্রকাশনায় ফটোকার্ডটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, পরীমণির বক্তব্যের পক্ষেও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি এবং ফটোকার্ডটির বিশ্লেষণে এআই-নির্মিত কনটেন্টের সংকেত পাওয়া গেছে। ফলে গণমাধ্যমটির পরিচয় ব্যবহার করে পরীমণির নামে জামায়াত আমিরকে জড়িয়ে প্রচারিত বক্তব্যটি সত্য বলে গ্রহণ করার কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।

