ম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে ডা. জাহেদ উর রহমানের নামে একটি মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। কালবেলার লোগো ও নকশা ব্যবহার করে তৈরি ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়, “ট্রাম্প নোবেল পুরস্কার না পেয়ে আওয়ামী লীগ দিয়া, নোবেলজয়ী ড. ইউনুসকে হেনস্তা করতে পারে, তাকে জবাবদিহি করা উচিত।” তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কালবেলা এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি এবং ডা. জাহেদ উর রহমানেরও এ ধরনের মন্তব্যের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আলোচিত ফটোকার্ডটিতে প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। এই সূত্র ধরে কালবেলার ফেসবুক পেজে ওই তারিখে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে কথিত মন্তব্যসংবলিত কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। একইভাবে, কালবেলার ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও এ বক্তব্যের সমর্থনে কোনো সংবাদ বা ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে কালবেলার ফেসবুক পেজে একই তারিখে ‘আ.লীগ নেতারা ক্ষমা চাইলেও সমঝোতার সম্ভাবনা নেই : ডা. জাহেদ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। মূল ফটোকার্ডটির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি তুলনা করে দেখা যায়, দুটির নকশা, ছবি, লোগো, প্রকাশের তারিখ ও অন্যান্য উপাদানের হুবহু মিল রয়েছে। শুধু মূল শিরোনামটি সরিয়ে তার পরিবর্তে ট্রাম্প, ড. ইউনূস ও আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে কথিত মন্তব্যটি বসানো হয়েছে।
অর্থাৎ, এটি কালবেলার নামে নতুন করে প্রকাশিত কোনো সংবাদ নয়; বরং গণমাধ্যমটির প্রকৃত ফটোকার্ডের শিরোনাম পরিবর্তন করে তৈরি করা একটি সম্পাদিত সংস্করণ। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে অনুসন্ধান করেও ডা. জাহেদ উর রহমানের নামে প্রচারিত কথিত মন্তব্যটির সমর্থনে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ট্রাম্প নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় আওয়ামী লীগের মাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করতে পারেন, এমন মন্তব্য ডা. জাহেদ উর রহমান করেছেন বলে প্রচারিত ফটোকার্ডটি কালবেলার প্রকাশিত নয়। কালবেলার প্রকৃত ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করে তাঁর নামে একটি ভুয়া মন্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

