সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, গুলশান থানার সাবেক ওসি মো. আল আমিন পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। ফটোকার্ডে তার নামে বলা হয়েছে, পুলিশ দায়িত্ব পালন না করলে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি নাকি বলেছেন, দুই দিন পর এই সরকারই থাকবে না।
দাবিটির সত্যতা যাচাই করে দেখা যায়, ফটোকার্ডে উল্লিখিত মো. আল আমিন নামে গুলশান থানার কোনো ওসির দায়িত্ব পালনের তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের সময় থানাটির ওসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মো. দাউদ হোসেন। পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে ডিএমপির সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
এ ছাড়া, মো. আল আমিন নামে কোনো সাবেক ওসি এমন মন্তব্য করেছেন কি না তা যাচাই করে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট কোনো সূত্রে বক্তব্যটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফলে ফটোকার্ডে ব্যবহৃত পরিচয় ও কথিত বক্তব্যের কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি মেলে না।
আরও অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘মোঃ আল আমিন’ নামের যে ফেসবুক প্রোফাইল থেকে আলোচিত ফটোকার্ডটি ছড়ানোর সূত্র পাওয়া যায়, সেই প্রোফাইলের পরিচিতিতে সেটিকে স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক প্রোফাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রোফাইলে এ ধরনের আরও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টও রয়েছে। অর্থাৎ, মূল পোস্টটি সংবাদ প্রতিবেদন হিসেবে নয়, ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবে তৈরি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে ওই ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টের বক্তব্য ও পরিচয়কে সংবাদভিত্তিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে প্রচার করা হয়েছে। এতে অস্তিত্বহীন একজন ব্যক্তিকে গুলশান থানার সাবেক ওসি হিসেবে দেখানোর পাশাপাশি তার নামে একটি মনগড়া বক্তব্যও যুক্ত করা হয়েছে।
সুতরাং, গুলশান থানার সাবেক ওসি মো. আল আমিনের নামে প্রচারিত কথিত মন্তব্যটি ভুয়া ও বানোয়াট; ফটোকার্ডটির উৎস একটি স্যাটায়ার প্রোফাইলের পোস্ট।

