এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যবহৃত একটি গাড়িকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকটি পোস্টে গাড়িটির মালিক মনিরুল হক ভুঁইয়া ওরফে তুষার ভুঁইয়াকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যবহৃত গাড়িটিকে আওয়ামী লীগ নেতার গাড়ি বলে উপস্থাপন করা হয়েছে।
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে গাড়িটির মালিক তুষার ভুঁইয়ার রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, তুষার ভুঁইয়া অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি মাদারীপুর সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ওরফে বাচ্চু ভুঁইয়াও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
তবে তুষার ভুঁইয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অনুসন্ধানে একটি বিষয়ও পাওয়া যায়—উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি আওয়ামী লীগের কয়েকটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের একটি কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি ও বক্তব্যের তথ্যও পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তার ছবি থাকার তথ্যও রয়েছে।
অন্যদিকে, তুষার ভুঁইয়া নিজে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি বিএনপির রাজনীতি করেছেন এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে তার ছবি মূলত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারি ও স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সূত্রে তোলা। মাদারীপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক মো. নিয়ামত উল্লাহও তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলে উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তুষার ভুঁইয়া ও তার পরিবারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমে আন্দোলনের পক্ষে অবস্থানের তথ্যও পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, তুষার ভুঁইয়ার আওয়ামী লীগের কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ছবি থাকার তথ্য থাকলেও তাকে সরাসরি ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে তার অতীতে বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের তথ্যও স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়।
সুতরাং, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যবহৃত গাড়িটির মালিককে ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রচারিত দাবিটি বিভ্রান্তিকর

