সম্প্রতি ইউটিউব ও টিকটকে একটি কথিত সংবাদ প্রতিবেদন প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় সিআইডির তদন্তে নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে গ্রে`ফ`তা`র করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, নির্বাচন এক বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই হ`ত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও জড়িয়ে পড়েছেন।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, হাদি হ`ত্যার ঘটনায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান গ্রে`ফ`তা`র হওয়ার দাবির কোনো সত্যতা নেই। প্রকৃতপক্ষে, ২০২২ সালে ডা. শফিকুর রহমানকে গ্রে`ফ`তা`রে`র পুরোনো সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে এআই-নির্মিত ছবি যুক্ত করে সম্পূর্ণ ভুয়া একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
প্রচারিত ভিডিওতে সংবাদ উপস্থাপিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমানকে গ্রে`ফ`তা`র করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। রাতে বারিধারা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রে`ফ`তা`র করা হয় তাকে।’ বক্তব্যটির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দ্য ডেইলি স্টার-এর বাংলা সংস্করণে ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট গ্রে`ফ`তা`র করেছিল।
অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওতে ডা. শফিকুর রহমানকে গ্রে`ফ`তা`রে`র যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটি বর্তমান কোনো ঘটনা নয়; বরং ২০২২ সালের একটি পুরোনো ঘটনার তথ্য।
এছাড়া, কথিত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সংবাদ উপস্থাপিকার ফুটেজ এবং পুলিশ হেফাজতে ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যের উৎস অনুসন্ধান করেও পুরোনো ভিডিও ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সংবাদমাধ্যম বাংলাভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রচারিত ‘জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সাতদিনের রিমান্ডে’ শিরোনামের প্রতিবেদনের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওতে ব্যবহৃত সংবাদ উপস্থাপিকার দৃশ্য এবং ডা. শফিকুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত কথিত সংবাদ প্রতিবেদনের থাম্বনেলে ডা. শফিকুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে দেখানো একটি ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিটি পর্যবেক্ষণ করলে পুলিশ সদস্য ও ডা. শফিকুর রহমানের অঙ্গভঙ্গি, দেহের গঠন এবং পারিপার্শ্বিক দৃশ্যে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। পরবর্তীতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী বিভিন্ন টুলে ছবিটি বিশ্লেষণ করেও এটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা সম্পাদিত হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা পাওয়া যায়।
পাশাপাশি, আলোচিত কথিত সংবাদ প্রতিবেদনে আরও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করা হলেও সেগুলোর কোনোটিতেই ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে ডা. শফিকুর রহমানের সম্পৃক্ততা কিংবা তার গ্রে`ফ`তা`রে`র দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করেও মূলধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে হাদি হ`ত্যা মা`ম`লায় জামায়াত আমীরের গ্রে`ফ`তা`রের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, ২০২২ সালে ঘটে যাওয়া ডা. শফিকুর রহমানের গ্রে`ফ`তা`রে`র পুরোনো সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজকে বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর সঙ্গে এআই-নির্মিত বা সম্পাদিত ছবি এবং বিভ্রান্তিকর বর্ণনা যুক্ত করে হাদি হত্যা মামলায় তার গ্রে`ফ`তা`রের মিথ্যা দাবি তৈরি করা হয়েছে।

