সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, তিনি বলেছেন, “আমার এখানে বিদ্যুৎ আছে। গ্যাসও আছে। গাড়িতে তেল আছে। বাসায় নিয়মিত বাজার আছে। যারা বলছেন, এই নাই, সেই নাই—তারা ফ্যা`সি`স্টদের দো`স`র। আমি সজাগ আছি। আপনাকেও সজাগ থাকতে হবে।” অর্থাৎ, চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, তারেক রহমান এমন কোনো মন্তব্য করেননি। ভাইরাল ফটোকার্ডে প্রচারিত বক্তব্যের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণও পাওয়া যায়নি। বরং তার সাম্প্রতিক বক্তব্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন এবং সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য ও সংবাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। এসব সূত্রে ভাইরাল ফটোকার্ডে প্রচারিত বক্তব্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একইভাবে, দেশের মূলধারার গণমাধ্যমেও এ ধরনের কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।
বরং গত ৪ আগস্ট এখন টিভিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারেক রহমানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যের তথ্য পাওয়া যায়। ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রাম ও র`ক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং সরকার তা জানে। সংকটের দায় এড়িয়ে না গিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সরকার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
এরপর ৮ আগস্ট প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্যের তথ্য পাওয়া যায়। সেখানেও তিনি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করেন। একইসঙ্গে বিগত সময়ের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে এবং সরকার তা থেকে দেশকে উত্তরণের চেষ্টা করছে বলে জানান।
এছাড়া ৯ আগস্ট ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তারেক রহমানের গ্যাস সংকট নিয়ে বক্তব্যের তথ্য প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি জানান, আমদানি করা এলএনজি খালাসে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যার কারণে সাময়িক গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। সমস্যা সমাধান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি পরবর্তী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট কাটিয়ে ওঠার আশা প্রকাশ করেন।
অর্থাৎ, ভাইরাল ফটোকার্ডে তারেক রহমানের নামে যে বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, তার সঙ্গে তার সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বরং তার বক্তব্যের নির্ভরযোগ্য রেকর্ডে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বাস্তবতা স্বীকার এবং তা সমাধানে সরকারের উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে।
সুতরাং, ‘আমার এখানে বিদ্যুৎ-গ্যাস আছে, সংকটের কথা যারা বলেন তারা ফ্যা`সি`স্ট`দের দো`স`র’—তারেক রহমানের নামে প্রচারিত মন্তব্যটি ভুয়া ও বানোয়াট।

