Google search engine
HomePoliticsনাফসিনকে জড়িয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসায় আগুনের গুজব ছড়াচ্ছে ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম

নাফসিনকে জড়িয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসায় আগুনের গুজব ছড়াচ্ছে ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের কর্মী নাফসিন মেহনাজকে জড়িয়ে একটি বিভ্রান্তিকর দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে নাফসিনের অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়ায় হাইকমিশনারের স্ত্রী গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং এর ফলেই তাঁদের বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

তবে ‘ফ্যাক্ট রিভিউ’-এর অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছড়িয়ে পড়া এই দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। মূলত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এর সঙ্গে নাফসিন মেহনাজের কোনো সম্পর্ক নেই।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ফায়ার সার্ভিস ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৬ আগস্ট ভোরে গুলশানে পাকিস্তানের বর্তমান হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের বাসভবনে টিভি বা কোনো বৈদ্যুতিক ডিভাইস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনে। হাইকমিশনার ও তাঁর স্ত্রী নিরাপদে আছেন।

গুজবের সূত্রপাত ও ভারতের সম্পৃক্ততা অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটি প্রতিষ্ঠা করতে নাফসিন মেহনাজের কিছু পুরোনো ছবি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে বিকৃত করা কিছু ভুয়া ছবি ছড়ানো হয়েছে। পুরোনো ছবিগুলো মূলত গত বছর সাবেক হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফের আমন্ত্রণে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময়ের।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নাফসিনকে জড়িয়ে অনলাইনে শুরু হওয়া এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি ছড়িয়ে পড়েছে ভারতেও। ‘ফ্যাক্ট রিভিউ’-এর অনুসন্ধানে দেখা যায়, GEOPulse (জিওপালস) নামের একটি ভারতীয় কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম তাদের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে এই একই ভিত্তিহীন দাবি নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা ইতোমধ্যে লক্ষাধিকবার দেখা হয়েছে।

নাফসিন মেহনাজ নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, সাবেক হাইকমিশনারের বিদায়ের পর তিনি আর ওই বাসভবনে যাননি এবং বর্তমান হাইকমিশনারের সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র পরিচয়ও নেই। মূলত একটি নির্দিষ্ট সাইবার গ্রুপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনলাইনে চরিত্রহননের জন্য, এমনকি ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেও এই নোংরা অপপ্রচার চালিয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular