‘গোপালগঞ্জে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় ৭ বছরের শিশুকে গ্রে-প্তা-র’—শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা; চুরির মা`ম`লায় আটক হন ১৫ বছর বয়সী সুমন
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গোপালগঞ্জে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় ৭ বছরের শিশুকে গ্রে-প্তা-র’—এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। একই দাবিতে কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রচারিত পোস্ট ও প্রতিবেদনগুলোতে একটি ছবিতে এক পুলিশ সদস্যকে এক কিশোরকে হাত ধরে প্রিজন ভ্যানে তোলার দৃশ্য দেখিয়ে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই। আটক কিশোরটি ৭ বছরের শিশু নয়; তার বয়স ১৫ বছর। একইভাবে, তাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার কারণে আটক করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় সংঘটিত একটি চু`রির মামলায় তদন্তের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।
প্রচারিত ছবির রিভার্স ইমেজ সার্চ ও প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে প্রথম আলো, সমকালসহ একাধিক মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাতে জানানো হয়, গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে কাশিয়ানী উপজেলার ভাট্টাইধোবা গ্রামের মো. রাজিব মিয়ার বাড়িতে চু`রির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তার স্ত্রীর স্বর্ণের কানের দুল, স্বর্ণের চেইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চু`রি হয়।
পরবর্তীতে, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কাশিয়ানী থানায় চু`রির মামলা হয়। মা`ম`লার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ১৫ বছর বয়সী সুমন শেখকে আ`ট`ক করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ আরও জানায়, তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক চু`রির মামলা রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কিশোরটিকে চু`রির মামলায় আটক করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিষয়ের সম্পর্ক নেই। সংবাদমাধ্যমেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো রাজনৈতিক মামলার প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন।
অর্থাৎ, চুরির মামলায় আটক ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় গ্রেপ্তার হওয়া ৭ বছরের শিশু হিসেবে উপস্থাপন করে প্রচার করা হয়েছে। বাস্তব ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিকৃত করে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্যটি ছড়ানো হয়েছে।

