সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি ব্যাপকভাবে প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে যে, “প্রতিটি হিন্দু মন্দিরে অ’স্ত্রের গুদাম রয়েছে”। ছবির সাথে মন্দিরের ভেতরে আ’গ্নেয়াস্ত্রের দৃশ্য যুক্ত করে এটিকে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে জনমনে আতঙ্ক ও সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে বিস্তারিত সাইবার অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত এই ছবিটি বাংলাদেশের নয় এবং এর সাথে চলমান কোনো মন্দির ইস্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত, ছবিটি ভারতের গুজরাটের বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ৫ থেকে ৭ বছর আগের ‘শস্ত্র পূজা’ বা অস্ত্র পূজার প্রস্তুতির সময়কার। ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করে একই রকম আরও একাধিক ছবি পাওয়া গেছে। এছাড়া, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বাংলাদেশেও দুর্গাপূজার সময় কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘শস্ত্র পূজা’ পালনের রীতি রয়েছে; তবে সেসব পূজায় সাধারণত প্রথাগত বা ঐতিহ্যবাহী দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়, ভাইরাল হওয়া ছবির মতো কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়।
মূলত সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন, ভাইরাল হওয়া এবং অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে এ ধরনের সংবেদনশীল ও উ’সকানিমূলক কন্টেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব অপপ্রচারের ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক ভুল বোঝাবুঝি ও বিদ্বেষ বাড়ছে, যা নেটিজেনদের বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ চাওয়ার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
সুতরাং, “প্রতিটি হিন্দু মন্দিরে অস্ত্রের গুদাম রয়েছে” দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া, বিভ্রান্তিকর এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার একটি পরিকল্পিত অপপ্রয়াস

