Google search engine
HomePoliticsঅক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে নয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও বাংলা সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠানে অংশ...

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে নয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও বাংলা সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠানে অংশ নেন সাদিক কায়েম ও হাসনাত আবদুল্লাহ ; বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছে যে, সাদিক কায়েম ও হাসনাত আবদুল্লাহ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে যাননি; বরং অর্থের বিনিময়ে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের হলরুম ভাড়া নিয়ে নিজেদের আয়োজনকে ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান’ হিসেবে প্রচার করেছেন। এ দাবির পক্ষে বিভিন্ন পোস্টে একটি কথিত বুকিং সংক্রান্ত স্ক্রিনশটও প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটির সূত্রপাত ‘আধুনিক গরুর রচনা সমগ্র’ বইয়ের লেখক পরিচয়ে পরিচালিত মহিউদ্দিন মোহাম্মদ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে। যদিও মহিউদ্দিন মোহাম্মদ একটি ছদ্মনাম এবং এই নামের আড়ালে থাকা ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ্যে জানা যায় না।

ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়, শিবির ও এনসিপি নিজেদের অর্থে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ডিবেটিং চেম্বার ভাড়া নিয়ে সেটিকে ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ’ হিসেবে প্রচার করেছে। দাবির সমর্থনে একটি স্ক্রিনশটও যুক্ত করা হয়, যেখানে বলা হয় যে ‘Mohiuddin Mohammad Fan Club UK’ নামের একটি সংগঠন ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ডিবেটিং চেম্বার ভাড়া নিয়েছে।

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্ক্রিনশটে উল্লেখিত সময়সীমা অনুযায়ী হলরুমটি সংরক্ষিত থাকার দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল পাওয়া যায় না। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের উন্মুক্ত বুকিং ব্যবস্থায় যাচাই করে দেখা যায়, দাবিকৃত সময়ের অধিকাংশ অংশই বুকিংয়ের জন্য খালি ছিল। ফলে স্ক্রিনশটটি আলোচিত দাবির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

পরবর্তীতে দেখা যায়, মহিউদ্দিন মোহাম্মদের পোস্টটি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের একাধিক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট শেয়ার করে একই দাবি প্রচার করেছেন। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের সাবেক জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম, ছাত্রদল নেত্রী জান্নাতুল নাওরিন উর্মি এবং বিএনপিতে যোগ দেওয়া মির আরশাদুল হকসহ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী পোস্টটি শেয়ার করে অক্সফোর্ড সফর নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উত্থাপন করেন। একই ধরনের দাবি আওয়ামী লীগপন্থী কয়েকটি পেজ থেকেও প্রচার হতে দেখা যায়।

তবে অনুসন্ধানে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক পোস্ট পাওয়া যায়, যেখানে “The Student-Led Uprising and the Future of Post-Revolutionary Bangladesh” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বক্তা হিসেবে হাসনাত আবদুল্লাহ, সাদিক কায়েম, ড. নাবিলা ইদ্রিস ও ড. আলিয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ ছিল।

একই আয়োজনের তথ্য অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মেও পাওয়া যায়। প্রকাশিত পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে অনুষ্ঠানটি অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে।

এছাড়া অক্সফোর্ডভিত্তিক শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যম Cherwell-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ওই প্যানেল আলোচনা অক্সফোর্ড ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয় এবং এর আয়োজক ছিল অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি।

অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রণপত্র ও নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট আরওয়া হানিন এলরায়েস স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে অতিথি বক্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে যে “The July Revolution and the Return of Democracy in Bangladesh” শীর্ষক আলোচনা অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে।

তবে অনুসন্ধানে এটিও নিশ্চিত হওয়া যায় যে, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বা একাডেমিক কোনো বিভাগ নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত একটি স্বাধীন বিতর্ক ও আলোচনাভিত্তিক সংগঠন। ফলে অনুষ্ঠানটিকে ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন’ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।

সুতরাং, সাদিক কায়েম ও হাসনাত আবদুল্লাহর অক্সফোর্ড সফর সম্পূর্ণ ভুয়া বা অর্থের বিনিময়ে সাজানো অনুষ্ঠান ছিল—এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এটিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ হিসেবে উপস্থাপন করাও যথার্থ নয়। প্রকৃতপক্ষে, তারা অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular