সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—বিবাহবিচ্ছেদের পর এক দম্পতি তাদের ছোট সন্তানকে এতিমখানায় রেখে চলে গেছেন। আবেগঘন বর্ণনাসহ ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার ফুটেজ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে নির্মিত একটি স্ক্রিপ্টেড ভিডিও, যা অভিনয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
ভিডিওটির উৎস অনুসন্ধান করে দেখা যায়, এটি ‘প্রবাসী মেয়ে রুনা’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয়। পোস্টটিতে ‘Live Stream – Bangla’ নামের একটি ফেসবুক পেজকে ট্যাগ করা হয়েছে। উক্ত পেজটির বায়োতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, “আমাদের গল্পগুলো কাল্পনিক এবং শিক্ষামূলক”।
এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট পেজটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, একই শিশুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার দাবি সম্বলিত একাধিক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শিশুটিকে ‘শিশু চুরি চক্রের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৫ এপ্রিলের একটি ভিডিওতে একই শিশুকে ‘অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাড়ে ব্যর্থ এক বাবার সন্তান’ হিসেবে দেখানো হয়। আবার ২০ এপ্রিলের একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়, অভাবের কারণে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে সম্পূর্ণ ভিন্ন পারিবারিক ঘটনার সঙ্গে একই শিশুকে যুক্ত করে গল্প উপস্থাপন করা হয়।
একই শিশুকে ঘিরে পরস্পরবিরোধী ও ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার বর্ণনা প্রচার হওয়া থেকে স্পষ্ট হয় যে, এসব ভিডিও বাস্তব কোনো ঘটনার ফুটেজ নয়; বরং দর্শক আকর্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মিত অভিনয়নির্ভর ও স্ক্রিপ্টেড কনটেন্ট।
সুতরাং, ডিভোর্সের পর সন্তানকে এতিমখানায় ফেলে যাওয়ার আসল ঘটনা দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি একটি স্ক্রিপ্টেড ভিডিও; যা বাস্তব ঘটনা হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।

