
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে নীল টি-শার্ট পরিহিত এক যুবকের কোমরে অস্ত্রসদৃশ একটি বস্তু দেখা যাওয়ায় ফেসবুক এবং মূলধারার বেশ কিছু গণমাধ্যমে সেটিকে ‘বন্দুক’ বা আগ্নেয়াস্ত্র বলে দাবি করা হয়। এমনকি একটি টেলিভিশন টকশোতেও দাবি করা হয় যে, এনসিপির প্রটোকল বাহিনীর ওই সদস্যের হাতে স্পষ্ট বন্দুক দেখা গেছে এবং তিনি সেটি ব্যবহারের চেষ্টা করছিলেন।
তবে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, যুবকের হাতে বন্দুক থাকার এই দাবিটি সঠিক নয়। ভাইরাল ভিডিওটির বিভিন্ন সংস্করণ এবং একাধিক ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বস্তুটি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। এটি ছিল মূলত একটি ‘সেল্ফ ডিফেন্স স্টিক’ বা মেটালের তৈরি আত্মরক্ষামূলক লাঠি, যা তিনি কোমর থেকে বের করে অন্য একজনের হাতে দিচ্ছিলেন।
ভিডিওতে দৃশ্যমান ওই যুবকের নাম আশিক বিশ্বাস, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কমিটির একজন সদস্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে আশিক দাবি করেন, হামলাকারীরা এই সেফটি স্টিক দিয়ে এনসিপি নেতার ওপর আক্রমণ করার সময় তিনি সেটি ছিনিয়ে নিজের কাছে রেখেছিলেন, এটি কোনো পিস্তল ছিল না। তবে বর্তমানে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করেছে।

