সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, মুন্সিগঞ্জের দৌলতখানে হিন্দুদের বসতবাড়িতে আ`গুন দেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে কয়েকটি ঘরে আ`গুন জ্বলতে দেখা গেলেও পোস্টগুলোতে ঘটনাটির স্থান ও কারণ সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওটির উৎস ও দৃশ্যের সঙ্গে মিলে যাওয়া ছবি অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ঘটনাটি মুন্সিগঞ্জের নয়। গত ৩০ আগস্ট তপন চন্দ্র দে নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই অ`গ্নিকাণ্ডের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই পোস্টে ঘটনাস্থল হিসেবে ভোলার দৌলতখানের হালিম শাহের পুকুরপাড় এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আ`গুনের সূত্রপাত হয়ে কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আ`গুন নেভাতে স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিমরা একসঙ্গে কাজ করেছেন বলেও পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটির বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়। ৩১ আগস্ট ‘Say Always Truth’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ আগস্ট দুপুরের দিকে ভোলার দৌলতখান পৌরসভার হালিম শাহ পুকুরের পেছনে আ`গুন লাগে। স্থানীয়দের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবন বাবুর ঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আ`গুনের সূত্রপাত হয় এবং পরে তা পাশের দুলাল দেবনাথের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
দৌলতখান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মুখলেসুর রহমানের বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আ`গুনের সূত্রপাতের তথ্য পাওয়া গেছে।
অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি একটি বাস্তব অ`গ্নিকাণ্ডের হলেও সেটির স্থান ও কারণ সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। ভোলার দৌলতখানে শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অ`গ্নিকাণ্ডকে মুন্সিগঞ্জে হিন্দুদের বাড়িতে ইচ্ছাকৃত অ`গ্নিসংযোগের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সুতরাং, ভোলার দৌলতখানে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অ`গ্নিকাণ্ডের ভিডিওকে মুন্সিগঞ্জে হিন্দুদের বাড়িতে অ`গ্নিসংযোগের ঘটনা দাবিতে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।

