গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি বিকৃত ও নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় গ্রাফিতিতে কালি লাগানো হলে এক রিকশাচালক ও এক পথচারী পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করেন। এ ঘটনার পর প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক পেজ থেকে একটি ছবি প্রচার করা হয়। ছবিতে একজন ব্যক্তিকে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতির সামনে প্রস্রাব করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, ওই ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথের মুখে প্রস্রাব করতে গিয়েছিলেন এবং পুলিশ তাঁকে ধরে পানি ঢেলে ছবি তুলেছে। তবে ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ে দেখা যায়, এটি বাস্তব ঘটনার দৃশ্য নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি বা সম্পাদিত।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ছবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা সূত্রে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছবিটি পর্যবেক্ষণ করেও একাধিক অসংগতি চোখে পড়ে। বিশেষ করে, একই ধরনের ভঙ্গিতে পরপর একাধিক ব্যক্তিকে প্রস্রাব করতে দেখা যাওয়া এবং দৃশ্যের অন্যান্য অস্বাভাবিকতা ছবিটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে। পরবর্তী যাচাইয়ে গুগলের জেমিনিতেও ছবিটি এআইয়ের সাহায্যে তৈরি বা সম্পাদিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ছবিটির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই করতে ১০ অক্টোবর ‘Global TV News’-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ‘রবীন্দ্রনাথের ছবির কালিমা ধুয়ে পরিষ্কার করছেন রিকশাওয়ালা!’ শিরোনামের ভিডিও পর্যালোচনা করা হয়। ভিডিওতে গ্রাফিতি পরিষ্কার করতে দেখা যাওয়া ব্যক্তির পোশাকের সঙ্গে আলোচিত ছবির ব্যক্তির পোশাকের মিল রয়েছে। তবে ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে প্রচারিত ছবির দাবিকৃত ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া, ১২ অক্টোবর দৈনিক ‘এই সময়’-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে গ্রাফিতি পরিষ্কার করা ওই রিকশাচালকের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। রবীন্দ্রনাথের ছবিতে লাগানো কালি মুছে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কবি মানুষ। একটা দেশের লোক। ভালো লোক।’ প্রতিবেদনটিতে গ্রাফিতি পরিষ্কারের ঘটনার বিবরণ পাওয়া গেলেও সেখানে প্রচারিত ছবির মতো প্রস্রাব করার কোনো ঘটনার উল্লেখ নেই।
অর্থাৎ, বাস্তব ঘটনায় রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে লাগানো কালি পানি দিয়ে পরিষ্কার করার দৃশ্যের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও গ্রাফিতির সামনে প্রস্রাব করার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। বরং ছবির দৃশ্যগত অসংগতি, জেমিনির যাচাই এবং বাস্তব ঘটনার ভিডিওর সঙ্গে তুলনা করে ছবিটিকে এআই-নির্মিত বা সম্পাদিত বলে প্রতীয়মান হয়।
সুতরাং, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতির সামনে এক ব্যক্তির প্রস্রাব করার দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই-নির্মিত বা সম্পাদিত; এটিকে বাস্তব ঘটনার ছবি হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।

