
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ছবি ও পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একটি হিন্দু মন্দিরের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে এবং একে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। মূলত এই দাবিটি বিভ্রান্তিকর এবং একটি ঘটনাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। গত ২৬ মে, ২০২৬ তারিখে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর টটুয়ার বার্ণী শ্রী শ্রী অন্নপূর্ণা মন্দিরের একটি নতুন সীমানা প্রাচীরের ভিত্তি তৈরি করা হয়। কিন্তু বিরোধপূর্ণ ওই জায়গাটি ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত, অর্থাৎ সরকারি খাস জমি হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে স্থানীয় তহসিলদার উক্ত ভিত্তিটি ভেঙে দেন। কাঁচা ইটের তৈরি ওই ভিত্তিটি ভাঙার সময় পায়ের ব্যবহার করায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এবং তারা বিষয়টিকে ধর্মীয় অবমাননা হিসেবে ধরে নেন। এই আবেগকে পুঁজি করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি খাস জমি উদ্ধারের একটি প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সাম্প্রদায়িক হামলার রূপ দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং মন্দির কমিটির প্রতিনিধিদের মাঝে সমন্বয় করা হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য আগামী ১ জুন, ২০২৬ তারিখে একটি আলোচনার দিন ধার্য করা হয়েছে। সুতরাং, সরকারি জমি থেকে স্থাপনা উচ্ছেদের এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হামলা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাঙচুর হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

