সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে মারা গেছেন দাবি করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটিতে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ উল্লেখ করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন এটি আরটিভির প্রকাশিত সংবাদ।
ফটোকার্ডটির সত্যতা যাচাই করতে আরটিভির বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনুসন্ধান করা হয়। আরটিভির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে শেখ হাসিনার মৃত্যুর দাবিতে এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ফটোকার্ডে উল্লেখ করা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’র প্ল্যাটফর্মেও শেখ হাসিনার মৃত্যুর বিষয়ে আলোচিত দাবির সমর্থনে কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ফটোকার্ডটির ডিজিটাল বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি মূল কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ফটোকার্ড নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির সাহায্যে যাচাইয়ের সময়ও ছবিটিতে এআই সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরে আরটিভির নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টে আলোচিত ফটোকার্ডটিকে নকল হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, ফটোকার্ডটি আরটিভির তৈরি বা প্রকাশিত নয়।
অর্থাৎ, আরটিভির একটি প্রকৃত ফটোকার্ডের আদল ব্যবহার করে সেটিতে শেখ হাসিনার মৃত্যুর মিথ্যা তথ্য যুক্ত করা হয়েছে এবং পরে সেটিকে আরটিভির প্রকাশিত সংবাদ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দাবিটির সমর্থনে ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’র নামও ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ‘ভারতে শেখ হাসিনা মারা গেছেন’ দাবিতে আরটিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি এআই দিয়ে সম্পাদিত ও ভুয়া।

