সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে ছিনতাইকারীর ধস্তাধস্তির একটি ভিডিও প্রচার করে ঘটনাটি বাংলাদেশের বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির একজন এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় ওই নারী ব্যাগটি রক্ষা করতে ছিনতাইকারীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি করেন। ভিডিওটি প্রচারের সময় এর সঙ্গে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখা হয়েছে, ‘এত অনিরাপদ দেশ আগে কখনো দেখেছেন বলেন তো?’ তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়।
ভিডিওটির উৎস অনুসন্ধান করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম The Times of India-এর গত ১৭ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই ঘটনার ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ৬ মে ভারতের উত্তর প্রদেশের এতা জেলার জৈথরা এলাকায় ঘটে। সেখানে ৪৫ বছর বয়সী অনিতা দেবী নামে এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুই মোটরসাইকেল আরোহী। ছিনতা`ইকারীদের প্রতিরোধ করে ওই নারী প্রায় ২৩ মিনিট ধরে ব্যাগটি নিজের কাছে ধরে রাখেন।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, অনিতা দেবীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। একই ঘটনার বিষয়ে ২০ মে প্রকাশিত এশিয়ানেট নিউজের প্রতিবেদনেও অনিতা দেবীর ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, সাহসিকতার জন্য তাকে উত্তর প্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের এতা জেলার জৈথরায় সংঘটিত একটি ছিনতা`ইয়ের চেষ্টার পুরোনো ভিডিও। ভারতের ওই ঘটনাকে বাংলাদেশের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানো হচ্ছে।
সুতরাং, ভারতের উত্তর প্রদেশে সংঘটিত ছিনতা`ইয়ের চেষ্টার ভিডিওকে বাংলাদেশের ঘটনা দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

