সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হ‘ত্যাকাণ্ড এবং বাংলাদেশে ‘হিন্দু নিধনের’ অংশ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ-সমর্থক বিভিন্ন ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হচ্ছে, তাঁকে হ‘ত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, বরিশালের প্যারারা রোডে দৈনিক সমকালের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, কার্যালয়ের দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে দরজা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটিকে হ‘ত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচারের বিপরীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ঘটনাস্থল থেকে পুলক চ্যাটার্জির লেখা পাঁচটি নোট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব নোটে তিনি পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে পৃথকভাবে বিভিন্ন কথা লিখেছেন। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে লেখা নোটে তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘদিনের চিকিৎসার কথা উল্লেখ করে তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা জানান। একইভাবে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের উদ্দেশ্যেও বিদায়ের কথা লিখে যান।
পুলক চ্যাটার্জির স্ত্রী ও ভাইয়ের বক্তব্যেও তাঁর দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিকভাবে হতাশ থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে হ‘ত্যার অভিযোগের কোনো নিশ্চিত প্রমাণও সামনে আনা হয়নি।
এদিকে বরিশাল মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে এবং প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহ‘ত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃ‘ত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অর্থাৎ, পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে সরাসরি হ‘ত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এর সঙ্গে ‘হিন্দু নিধন’ বা পরিকল্পিত সংখ্যালঘু হ‘ত্যার যোগসূত্র দাবি করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বরং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, উদ্ধার হওয়া নোট, পরিবার ও পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে আত্মহ‘ত্যার দিকেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ঘটনাটিকে নিশ্চিত হ‘ত্যাকাণ্ড ও ‘হিন্দু নিধন’ হিসেবে প্রচার করা ভিত্তিহীন।

