সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশ থেকে শরিফ ওসমান হাদির কবর সরিয়ে নিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ দাবির সঙ্গে কবর খননের একটি ছবি যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে। তবে ছবিটির উৎস যাচাইয়ে দেখা যায়, এটি কবর সরানোর কোনো সাম্প্রতিক কার্যক্রমের দৃশ্য নয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, দৈনিক আমাদের বার্তার ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই ছবি পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে ছবিটিকে ওসমান হাদিকে দাফনের জন্য কবর প্রস্তুতের সময়ের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, দাফনের আগে কবর প্রস্তুতের সময় তোলা পুরোনো ছবিটিকেই পরবর্তী সময়ে কবর সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
এদিকে, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি সরিয়ে ফেলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে হলের নাম পরিবর্তনের ঘটনা এবং ওসমান হাদির কবর সরিয়ে নেওয়ার দাবির মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর কবর স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন তথ্যও নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, পুরোনো একটি ছবিকে বর্তমান ঘটনার দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করে কবর সরিয়ে নেওয়ার দাবি ছড়ানো হয়েছে। ছবিটির মূল প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের সঙ্গে প্রচারিত দাবির মিল নেই।

