সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শরীয়তপুরে এক শিশুর গলাকাটা মরদেহের ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, শিশুটির বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর ছেলেকে হ`ত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে দাবিটির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার অসংগতি পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওতে দেখানো শিশুটির নাম সোয়াইফ হোসেন। গত ৩ অক্টোবর শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আদাসন এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে ‘আমাদের শরীয়ত পুর’ নামের ফেসবুক পেজ ও ‘Ataur Rahman’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়।
ঘটনাটি নিয়ে ৩ অক্টোবর প্রকাশিত বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে স্বজনেরা অভিযোগ করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী রাসেল শিকদারকে আটক করে পুলিশ। অর্থাৎ, প্রকাশিত সংবাদে হ`ত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দা, নি`হ`ত শিশুর মা-বাবা ও পুলিশের বরাত দিয়ে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ঘটনার আগের দিন শিশুদের মধ্যে মারামারিকে কেন্দ্র করে বড়দের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরেই হ`ত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। নি`হ`ত শিশুর বাবা সেলিম সরদার ভ্যানচালক এবং স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি জামায়াতের সমর্থক। তাঁর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবিরও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফলে একটি শিশুর নৃশংস হ`ত্যাকাণ্ডকে বাবার আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতার কারণে সংঘটিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের দাবিটি প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মেলে না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হ`ত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রতিবেশীদের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নয়।
সুতরাং, শরীয়তপুরের ডামুড্যায় কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘটিত শিশু হ`ত্যাকাণ্ডকে তার বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করায় হ`ত্যা করা হয়েছে বলে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।

