সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দুর্গাপূজার প্রতিমালয়ে ১০–১৫ জনের পরিকল্পিত হা’মলা, এক যুবককে মারধর এবং কার্তিক প্রতিমার হাত ভা’ঙচু’রের অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রচারণায় ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলার রূপ দিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
প্রকৃতপক্ষে, গত ১৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জয়কালী বাজারে লোকনাথ আশ্রমের পাশে গৌরী শিল্পালয়ে প্রতিমা নিতে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে স্থানীয় একটি ভ্যানের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় যানবাহনের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ থেকে।
এ ঘটনায় বারখাইন ইউনিয়নের অপু সরকার আকাশ (২২) আঘাতপ্রাপ্ত হন। একই সময়ে হাতাহাতির ঘটনায় কার্তিক প্রতিমার একটি হাত সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পরবর্তীতে মেরামত করা হয়েছে। ফলে প্রতিমার হাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সত্য হলেও সেটিকে পরিকল্পিতভাবে প্রতিমা ভা’ঙ’চুরের অংশ হিসেবে প্রচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ১০–১৫ জনের পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলার যে চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে, তা উপলব্ধ তথ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যানবাহনের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ ও হাতাহাতির ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে উপস্থাপন করতে হলে তার পক্ষে সুনির্দিষ্ট ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে নিশ্চিত করার সুযোগ নেই।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত আনোয়ারা থানায় এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। সার্বিকভাবে, হাতাহাতি ও প্রতিমার সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার আংশিক সত্যতা থাকলেও একে পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হা’ম’লা হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।

