৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হা`ম`লায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রাইসুল ইসলাম পুলিশ ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হয়েছেন, এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, একই নামে দুই ব্যক্তিকে গুলিয়ে ফেলে এ দাবি করা হয়েছে। হা`ম`লায় অভিযুক্ত রাইসুল ইসলাম এবং চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পাওয়া রাইসুল ইসলাম আরমান ভিন্ন ব্যক্তি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১৪ অক্টোবর ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করে। এতে পুলিশ ক্যাডারে ১১তম স্থানে ‘রাইসুল ইসলাম আরমান’ নামে একজনের নাম রয়েছে। গেজেট পর্যালোচনায় পুলিশ ক্যাডারে ‘রাইসুল ইসলাম’ নামে আর কোনো প্রার্থীর নাম পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, চূড়ান্ত গেজেটে নাম রয়েছে রাইসুল ইসলাম আরমানের, হা`ম`লায় অভিযুক্ত রাইসুল ইসলামের নয়।
বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় হা`ম`লায় অভিযুক্ত রাইসুল ইসলামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি স্পষ্টীকরণ থেকে। সেখানে তিনি জানান, ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। একই বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হওয়া রাইসুল ইসলাম আরমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জে।
অন্যদিকে, ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’-এ গত বছরের ২৯ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ওপর হা`ম`লায় অভিযুক্ত রাইসুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মাস্টারদা সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। জুলাই আন্দোলনে হা`ম`লার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে সাময়িক বহিষ্কার করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তবে বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া এক বিষয় নয়।
এ ছাড়া, গেজেটভুক্ত রাইসুল ইসলাম আরমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমদের প্রকাশিত পোস্টেও তাঁর পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্যের সঙ্গে হা`ম`লায় অভিযুক্ত রাইসুল ইসলামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভাগ, হল ও জেলার পরিচয়ের পার্থক্য রয়েছে। ফলে শুধু নামের মিলের ভিত্তিতে তাঁদের একই ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়।
অর্থাৎ, ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও হা`ম`লায় অভিযুক্ত রাইসুল ইসলামের নাম চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন একই নামের ভিন্ন ব্যক্তি রাইসুল ইসলাম আরমান। দুই ব্যক্তির পরিচয় ও শিক্ষাগত তথ্যের পার্থক্য উপেক্ষা করে তাঁদের এক ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
সুতরাং, জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হা`ম`লায় অভিযুক্ত রাইসুল ইসলাম ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর। চূড়ান্ত গেজেটে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন একই নামের ভিন্ন ব্যক্তি রাইসুল ইসলাম আরমান।

