সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের ছবি ব্যবহার করে দৈনিক আমার দেশের আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। ফটোকার্ডটির শিরোনামে দাবি করা হয়, ‘ভারত ছাড়তে আশ্রয়ের জন্য সেনাপ্রধানকে ফোন দিয়ে ব্যর্থ হলে শাসক নরেন্দ্র মোদী।’ অর্থাৎ, মোদী ভারত ছাড়ার পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আশ্রয় চেয়ে সেনাপ্রধানকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে এ দাবির সমর্থনে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে দৈনিক আমার দেশের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১২ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। এই সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে ওই তারিখে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে আলোচিত শিরোনামসংবলিত কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। একইভাবে, আমার দেশের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও এ দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডটির নকশা ও শিরোনাম পর্যবেক্ষণ করে আমার দেশের প্রচলিত ফটোকার্ডের সঙ্গে ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ করা যায়। অর্থাৎ, ফটোকার্ডটিতে গণমাধ্যমটির লোগো ব্যবহার করা হলেও এর প্রকাশনা-সংক্রান্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এসব অসংগতির ভিত্তিতে ফটোকার্ডটি আমার দেশের প্রকৃত প্রকাশনা নয় বলে প্রতীয়মান হয়।
পরবর্তী অনুসন্ধানে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম বা সূত্রেও নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে ফোন করে বাংলাদেশে আশ্রয় চেয়েছিলেন কিংবা এ কারণে ব্যর্থ হয়েছিলেন, এমন দাবির সমর্থনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ফটোকার্ডে উপস্থাপিত ঘটনাটিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
সুতরাং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে আশ্রয় চেয়ে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে ফোন করেছিলেন এবং সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এমন দাবিতে দৈনিক আমার দেশের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া। ফটোকার্ডটি গণমাধ্যমটির প্রকৃত প্রকাশনা হিসেবে উপস্থাপনেরও কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

