সম্প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের এক কর্মীর স্ত্রীকে নি`র্যা`ত`নের পর হত্যা করা হয়েছে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি ছবি প্রচার করা হচ্ছে। এসব পোস্টে ঘটনার জন্য রাজনৈতিক বিরোধীদের দায়ী করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। একই ছবি ব্যবহার করে এক স্কুলশিক্ষকের মারধরে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার দাবিও প্রচার করা হচ্ছে। তবে ছবিগুলোর উৎস অনুসন্ধানে দেখা যায়, এগুলোর সঙ্গে প্রচারিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত প্রথম ছবিটির সঙ্গে যুবলীগ কর্মীর স্ত্রীকে নি`র্যা`ত`ন করে হ`ত্যার দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিষপানে এক নারীর মৃ`ত্যুর ঘটনায় থানায় মা`ম`লা হয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে ছবিটির সম্পর্ক থাকার দাবি করা হলেও ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। সিন্থআইডি (SynthID) প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবিটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে। ফলে ছবিটিকে বাস্তব ঘটনার অকাট্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ছবিটির উৎস অনুসন্ধানে ‘Seenath Arakkal Nalakath’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলে গত ৬ অক্টোবর একই ছবি প্রকাশিত হতে দেখা যায়। মালয়ালম ভাষায় লেখা পোস্টে দাবি করা হয়, যৌতুকের পরিমাণ কম হওয়ায় ভারতের কেরালার ২৪ বছর বয়সী এক নারী শ্বশুরবাড়িতে নি`র্যা`ত`নের শিকার হয়েছেন। পোস্ট অনুযায়ী, গুরুতর আহত ওই নারী কোল্লাম জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঞ্জু নামের ওই নারী সৌদি আরবে অবস্থানকালে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে প্রেশার কুকার, পাথর ও বেল্ট দিয়ে নি`র্যা`ত`নের অভিযোগ করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর কেরালায় ফিরে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এবং গুরুতর আঘাত নিয়ে কোল্লাম জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে মা`ম`লা হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অর্থাৎ, প্রথম ছবিটি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পাদিত এবং দ্বিতীয় ছবিটি ভারতের কেরালার এক নারীর ওপর নি`র্যা`ত`নের অভিযোগসংক্রান্ত ঘটনার। কোনো ছবির সঙ্গেই যুবলীগ কর্মীর স্ত্রীকে নি`র্যা`ত`নের পর হ`ত্যার দাবির যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একই ছবি দিয়ে স্কুলশিক্ষকের মারধরে ছাত্রী আহত হওয়ার দাবির পক্ষেও এখানে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, যুবলীগ কর্মীর স্ত্রীকে নি`র্যা`ত`নের পর হ`ত্যার দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো ভিন্ন প্রেক্ষাপটের। ছবিগুলোকে ওই ঘটনার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।

