বিএনপি সরকারের সময়ের নয়, ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ আমলে বগুড়ায় অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযানের ভিডিওটি
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, অবৈধ সরকার অটোরিকশা বন্ধ করে রিকশাচালকের পেটে লাথি দিচ্ছে এবং এমন জুলুম-নির্যাতন দেশের মানুষ মেনে নেবে না। প্রচারের ধরন থেকে বোঝানো হয়, ঘটনাটি বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ের।
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে প্রথমে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রশাসনের লোকজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক ও ভাঙচুর করছে। তবে ভিডিওর দৃশ্য, পোশাক ও আশপাশের পরিবেশ সাম্প্রতিক কোনো অভিযানের সঙ্গে মেলে না।
পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের আর্কাইভ ও অনলাইন সূত্রে অনুসন্ধান করা হয়। জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেলে ৪ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে প্রকাশিত একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওর বিবরণ থেকে জানা যায়, এটি বগুড়ায় অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযানের দৃশ্য।
এছাড়া সে সময়ের প্রতিবেদন যাচাই করে দেখা যায়, যানজট কমাতে ও অবৈধ যান চলাচল বন্ধে ৪ অক্টোবর ২০১৭ বগুড়া শহরের সাতমাথায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করে হাতুড়ি ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি হাজার হাজার মানুষের সামনে ঘটে এবং তা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের।
অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওটির কোনো সম্পর্ক বর্তমান বিএনপি সরকারের সঙ্গে নেই। পুরোনো একটি সংবাদমাধ্যমের ফুটেজকে নতুন শিরোনাম ও বক্তব্য জুড়ে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
সুতরাং, ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বগুড়ায় ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযানের ভিডিওকে বিএনপি সরকারের সময়ের ঘটনা দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া।

